পোস্টগুলি

নির্বাণ

অস্তিত্বে জড়তা নেই শুধু কিছু ঘুণপোকা বেঁধে আছে বাসা আমাদের জীর্ণ গলিঘুঁজি আমাদেরই গভীর হতাশা জমে ভরে যায় ঘুম ভেঙে দেখি ভোর হল তবুও ঘাসের গায়ে জমেনি শিশির কোন কোন জলাশয় , তুমি জানো , নদী নয় দিঘি নয় স্বচ্ছ পুকুর তুমি জানো আমার মেঘের কোনও নাম নেই তুমি জানো সমুদ্রও হেরে যায় স্মৃতিটুকু থাকে তার ব্যাকওয়াটারে অথচ তোমার দেশে কোমল সবুজ যেন ছেয়ে আছে নারকেল গাছে সুরভিত মশলাতে ভরে গেছে যাবৎ বাগান কৃষ্ণাদ্বাদশীর চাঁদ পাছে আনকথা বলে তোমার হাউসবোটে জানলাকে ঢাকে তাই পরদার সুখ আজই সকালে নিকট বন্ধু এক জানিয়েছে তার পিতা প্রয়াত হয়েছেন প্রাতে রতনবাবুর ঘাটে করা হল তাঁর দাহসংস্কার ত্রয়োদশ দিনে হবে শ্রাদ্ধ তাঁহার , আমি যেন যাই শুনে মনে হল , এখুনি পালাই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ছুঁড়ে ফেলি বাধ্যবাধকতা , বন্ধুর পাশে গিয়ে বসি কতদিন পাশে তার বসি নাই কতদিন কোন বন্ধুর পাশে বসে হয় নাই দিবসযাপন উচাটন হয়ে আছে মন ইদানীং মন বড় বাধ্য আমার হুকুম করলে তাকে উচ্চৈস্বরে হেসে তোলপাড় করে ঘরদোর ইঙ্গিতে চুপ করে ইশারা করলে পরে ভালবেসে ভরে দেয় নিরালা প্রহর কাঁদতে দে...

এই ঘরে আসি নাই

বহুদিন , বহুদিন যেন এই ঘরে আসি নাই যেন পাথরের ছায়া প ' ড়ে বহুদিন নীরব হয়েছে এই কাঠকুটো শাড়ির বুনোট এতটা ভূমিকা যদি প্রয়োজন ছিল তবে কেন ফিরে দিলে মাত্র পৃষ্ঠা এক , অগোচরে বহুদিন যেন আসি নাই এই ঘরে অদ্যই স্নানের সময়ে , একটি জলের ফোঁটা , দেওয়ালের গায়ে একা একা ফুল হল , মেঘ হল , এলোচুল হয়ে শেষে মিশে গেল অন্য ফোঁটায় আজকে সময় ছিল , যতটা থাকলে কি না ভাবা যায় মন দিয়ে দেখা যায় বহুরূপী জলের ফোঁটাকে অন্য অন্য দিনে কিছু কাজ থাকে আজকে ছিল না তারা হয়তো ছিল না কাজ পড়শিজনেরও শান্তই ছিল পাড়া বেলা দ্বিপ্রহরে ফিরিওলা হেঁকে গেছে , ওর কাছে যাবৎ পশরা আছে প্রত্যহই থাকে একদা হারিয়েছিল একখানি ঝর্ণাকলম , খুঁজেছিনু তারে সন্ধান মেলে নাই , উহাকে ফিরাবে বলে ফিরিওলা ডাকে শস্তায় দেবে বলে হারানো যা কিছু তাকে খুঁজে না কি পায় তার নখদর্পণে কত জনে বলে বটে নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয় তলিয়ে হয়নি ভাবা অন্য অন্য দিনে কাজ থাকে , এতটা সময় থাকে না বলাই সংগত হারানো অনেক কিছু ফিরে পেলে আনন্দই হত তবে জানি অতিদূর পশ্চিমে উঁকি মারে পূর্বের দিশা পূর্ণিমা অবসান হইয়...

যখন সান্নিধ্য দিলে, শ্রাবণ দিলে না।

ঐ মেঘ কতটা আন্তরিক হয়নি তা জানা শুধু সিঁদুরে সূর্যরেশ মুছে গেল নদীর ওপারে। গাছের জাফরি খোলা , হলুদ কলকা ফুল ছড়িয়েছে রাস্তার ঘাড়ে। তুমুল ইয়ারকি যেন এত বাচালতা দেখে ক্লান্ত লাগে না অবরোধে। অমন মেঘের আর কোন দল নেই , মিলেমিশে গেছে যতটা পশ্চিমে কালো ততটাই ঈশানে নৈঋতে। আহা সে কোথায় গেল ? গাড়িচাপা কুকুরের মতো নির্বাক সেই গোধূলিটি ? ছাদের প্রহর ছুঁয়ে আমের মুকুলে ক্রমশ বাড়ছে চাঁদ কালকেও দেখেছি আড়ালে আমাকে উজল করে আমারই ছায়াটি কার্ণিশে রাখিয়াছে হাত। অগাধ সন্ধেবেলা কড়াস্বরে চাইলো জবাব ,   - ' কোথা তব চিলেকোঠাখানি ? কোথায় লুকালে ভায়া জটপড়া লাটাইলিখন ?' যতই বাতাসে ডুবি তত মনে হয় সিঁড়িটির সমতল বাঁকে কেউ ঠিক রয়েছে দাঁড়িয়ে। আবছায়া মেখেছে সে তারই সৌরভে অচেনা পাখির জুটি এলোমেলো হল। দু ' জন হারাল বটে , দু ' জনেই হারাল তো তাও। এছাড়াও হারানো নিবিড়ে অবিশ্রান্ত আঁধারির কথা চৌহদ্দির নিপাট মর্চে ধরা বেড়া , ল্যাম্পপোস্ট বাগানের ঘাসে চৌখুপি , যাদুকর ঝিঁঝিঁপোকাদল। নিখুঁত সন্ধেখানি। গেলাসে বাজিলো টুং-টাং। জটলায় উঠে এলো অনাবিল হত্যার সুখ। ...

ছুঁয়ে গেছো, ভরিয়ে দাওনি তবু

আমার কার্ণিশে বিকেলঘর তোমার ছোঁয়াতে খোলা চুল আগোছালো কখন সমুদ্র এসে ডেকে নিয়ে গেল কখন সে ছুঁয়ে গেল ঝাউপাতাদের এখন দিগন্তে ভাসে নৌকোরা সওয়ারিবিহীন জমে ওঠে আষাঢ়ের রং ছুঁয়ে গেছ , ভরিয়ে দাওনি তবু সৈকতে ভেসে আসে জাহাজের ডুবে যাওয়া খবরাখবর নাবিকেরা ফিরে আসে বছরের শেষ স্মৃতিমাসে ছুঁয়ে গেছ , ভরিয়ে দাওনি তবু বাসা বেঁধে অবেলার পাখি ক্ষয়ে যাওয়া তারাটির চোখে ঠোঁট রাখে আমার বিকেলঘরে জমে ওঠে আলগোছে খোঁপার বাঁধন ছুঁয়ে গেছ , ভরিয়ে দাওনি তবু ...

বসন্ত আসছে

শিরিষের ডালে জমাট বাঁধতে থাকে ডজন যুবক কাক বোঝা যায় বসন্ত আসছে তাড়াতাড়ি এবং বসন্ত এলে নীতিগত ভাবে আমি তোমাকে ভাবতে পারি যখন তখন ফাঁকা বাইপাস নেশায় ঘুরছে স্টিয়ারিং ( বেশুমার নিশিরাত নতুবা চান্দ্রমাসে এতটা জোটে না অজুহাত) সারি সারি বিলবোর্ড ভরে যায় তোমার ছবিতে বসন্ত আসিছে মোর দ্বারে...

শেষ চিঠি

“ আগেকার মতন কিছু নেই আর - এমনকি জলদস্যুও স্পিডবোট চেপে আসে এসল্ট রাইফেল হাতে , একশো বুলেট ট্রিগার টিপলেই ছোটে। ভয় হয় হেরে যাব , সক্কলে দুয়ো দেবে তাই লজ্জাতে মাথাটাও হয়ে থাকে হেঁট। পিগমিরা ইদানীং দানব হয়েছে বলে ভাবে। ঢাকের দ্রিমিকি দ্রিমি আনছে না নতুন খবর। কমেছে গায়ের জোর। আমি আজ বাতিলের দলে। বাক্সতে আংটি দুটোকে পাবে। যোগ্য কাউকে দিয়ে দিয়ো। “ এও এক কিউরিয়ো , ব্যবসায়ী জানালেন – এইটাই শেষ চিঠি করোটিগুহার থেকে ডায়নাকে লিখেছেন চলমান অশরীরী , কিট ওয়াকার, কাঁপা কাঁপা অক্ষরে। আংটি পায়নি কেউই। আংটিরা নিখোঁজ হয়েছে চিরতরে।

হারিয়ে গেছ বিষণ্ণ কৌতুকে

আসছি বলে সেই যে গেলে বিষণ্ণ কৌতুকে আর এলে না , তখন থেকেই দুঃখে এবং সুখে বইঠা চালায় আজগুবি নাও ভরসাদিঘির পাড়ে ভাঁটার টানে জলে সরে যায় জোয়ারে জল বাড়ে সে সব কথা উহ্য থাকুক , বলিই বা কোন মুখে আসছি বলে হারিয়ে গেছ বিষণ্ণ কৌতুকে